Capacity Development in Clinical Services

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য খাতে নেতৃত্ব এবং কার্যকর সিস্টেম থিঙ্কিং-এর গুরুত্ব: অন্যান্য বিষয়ের সাথে তুলনামূলক বিশ্লেষণ, ইউএইচসি, এসডিজি এবং উন্নত দেশ ও এশিয়ার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সাথে যোগসূত্র

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য খাতে নেতৃত্ব এবং কার্যকর সিস্টেম থিঙ্কিং-এর গুরুত্ব: অন্যান্য বিষয়ের সাথে তুলনামূলক বিশ্লেষণ, ইউএইচসি, এসডিজি এবং উন্নত দেশ এশিয়ার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সাথে যোগসূত্র

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে নেতৃত্ব এবং কার্যকর সিস্টেম থিঙ্কিং (পদ্ধতিগত চিন্তাভাবনা) অন্যান্য বিষয় যেমন মানবসম্পদ (এইচআর), লজিস্টিকস, অর্থায়ন ইত্যাদির চেয়ে অধিক অপরিহার্য এবং গুরুত্বপূর্ণ। এই দুটি উপাদান সামগ্রিক ব্যবস্থার সমন্বয়, পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের ভিত্তি গঠন করে, যা সরাসরি ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ (ইউএইচসি) এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-এর সাথে যুক্ত। বিশেষ করে এসডিজি-৩ (সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ) এর লক্ষ্যমাত্রা ৩.৮-এ ইউএইচসি অর্জনের জন্য শক্তিশালী নেতৃত্ব এবং সিস্টেমিক চিন্তাভাবনা অপরিহার্য, কারণ এগুলো ছাড়া স্বাস্থ্য অসমতা দূরীকরণ এবং টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই বিষয়গুলোকে অন্যান্য চ্যালেঞ্জের সাথে তুলনা করে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, নেতৃত্বের অভাবে অন্যান্য ক্ষেত্রের উন্নয়নও ব্যর্থ হয়, এবং এটি উন্নত দেশ (যেমন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য) এবং এশিয়ান দেশ (যেমন থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর) এর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সাথে তুলনামূলকভাবে আরও স্পষ্ট হয়।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দুর্বল শাসনব্যবস্থা, দক্ষ কর্মী অভাব, অপর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং সেবা প্রদানের নিম্নমানের মতো চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। কিন্তু এগুলোর মূলে রয়েছে নেতৃত্বের দুর্বলতা এবং সিস্টেম থিঙ্কিং-এর অভাব, যা সামগ্রিক ব্যবস্থাকে সমন্বিত করে না। নেতৃত্ব মানে শুধু সিদ্ধান্ত গ্রহণ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সমন্বয় এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা, যা ইউএইচসি-এর মতো লক্ষ্য অর্জনে অপরিহার্য। সিস্টেম থিঙ্কিং হলো স্বাস্থ্য খাতকে একটি সমন্বিত পদ্ধতি হিসেবে দেখা, যেখানে এইচআর, লজিস্টিকস, অর্থায়ন ইত্যাদি একে অপরের সাথে যুক্ত। বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতের সমস্যাগুলো মূলত ম্যানেজমেন্ট-সম্পর্কিত, যেমন দুর্বল পরিকল্পনা, সমন্বয়ের অভাব এবং দায়বদ্ধতার কমতি। গবেষণায় দেখা যায় যে, বাজেট বা চিকিত্সা বিশেষজ্ঞতার অভাবের চেয়ে ম্যানেজমেন্টের দুর্বলতা বেশি দায়ী, যা এসডিজি অর্জনে বাধা সৃষ্টি করে। উদাহরণস্বরূপ, দশকেরও বেশি সময় ধরে স্বাস্থ্য খাতে পদ খালি থাকা, সরঞ্জামের অপচয় এবং অনুপস্থিতি ম্যানেজমেন্টের ব্যর্থতার ফল, যা ইউএইচসি-এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রভাব ফেলে। এই প্রেক্ষাপটে নেতৃত্ব এবং সিস্টেম থিঙ্কিং ছাড়া কোনো উদ্যোগ সফল হয় না, কারণ তারা অন্যান্য উপাদানগুলোকে কার্যকর করার জন্য অপরিহার্য।

অন্যান্য বিষয়ের সাথে তুলনা করলে দেখা যায় যে, স্বাস্থ্য খাতের চ্যালেঞ্জ যেমন এইচআর, লজিস্টিকস, অর্থায়ন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ হলেও, নেতৃত্ব এবং সিস্টেম থিঙ্কিং-এর অভাবে এগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ে। উদাহরণস্বরূপ, এইচআর-এর ক্ষেত্রে দক্ষ কর্মী অভাব একটি বড় চ্যালেঞ্জ, কিন্তু এইচআর-এর অমিলিত নিয়োগ এবং অনুপস্থিতি ম্যানেজমেন্টের দুর্বলতার ফল। প্রশিক্ষণ বা নিয়োগ করলেও, নেতৃত্বের অভাবে কর্মীরা অনুপ্রাণিত হয় না বা সঠিকভাবে বিতরণ হয় না, যা এসডিজি-এর স্বাস্থ্য লক্ষ্যমাত্রায় প্রভাব ফেলে। একইভাবে, লজিস্টিকস এবং সরঞ্জামের ক্ষেত্রে ওষুধ এবং সরঞ্জামের অপচয়, অ-কার্যকর লজিস্টিকস একটি সমস্যা, কিন্তু এগুলো নেতৃত্বের অভাবে অপব্যবহার হয়। ওষুধ কেনা হলেও, সিস্টেম থিঙ্কিং ছাড়া সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়ে, যেমন গ্রামীণ এলাকায় সরবরাহ না পৌঁছানো, যা ইউএইচসি-এর স্বচ্ছতা এবং সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়। অর্থায়নের ক্ষেত্রে অপর্যাপ্ত অর্থায়ন একটি চ্যালেঞ্জ, কিন্তু গবেষণায় দেখা যায় যে বাজেটের চেয়ে ম্যানেজমেন্টের দুর্বলতা বেশি দায়ী। নেতৃত্ব ছাড়া বাজেট অপচয় হয়, যেমন বাজেট বাড়ালেও পরিকল্পনা না থাকলে সেবা উন্নত হয় না। ডিজিটাল সংস্কারের ক্ষেত্রে ডিজিটাল এইচআর-এর গ্রহণে বাধা, যেমন অবকাঠামোর অভাব, কিন্তু কেন্দ্রীভূত নেতৃত্ব এবং সমন্বয়ের অভাব মূল কারণ। সিস্টেম থিঙ্কিং ছাড়া প্রযুক্তি অকার্যকর, যেমন এইচআরআইএস চালু হলেও প্রশিক্ষণ বা সমন্বয় না থাকলে ব্যবহার হয় না। বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে লিন প্র্যাকটিস (অপচয় কমানো) চালু করার চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু নেতৃত্বের অভাবে সফল হয়নি। একইভাবে, স্বাস্থ্য অসমতা দূরীকরণে সিস্টেম থিঙ্কিং অপরিহার্য, যা শুধু রোগ নিরাময় নয়, বরং সামাজিক কারণগুলোকে বিবেচনা করে, এবং এটি এসডিজি-এর সাথে সরাসরি যুক্ত।

এই বিষয়গুলো উন্নত দেশ এবং এশিয়ান দেশগুলির স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সাথে তুলনা করলে বাংলাদেশের দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়। উন্নত দেশ যেমন যুক্তরাজ্যে (ইউকে) জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা (এনএইচএস) একটি সমন্বিত সিস্টেম, যা শক্তিশালী নেতৃত্বের মাধ্যমে ইউএইচসি অর্জন করেছে, এবং এসডিজি-এর স্বাস্থ্য লক্ষ্যমাত্রায় অগ্রসর। যুক্তরাষ্ট্রে (ইউএসএ) স্বাস্থ্য ব্যয় উচ্চ (জিডিপির ১৮%), কিন্তু বিকেন্দ্রীভূত সিস্টেমে নেতৃত্বের অভাবে অসমতা রয়েছে, যা বাংলাদেশের মতো দেশগুলোকে সতর্ক করে। এশিয়ায় থাইল্যান্ড ইউএইচসি-এর সফল উদাহরণ, যেখানে সরকারি নেতৃত্বে সমন্বিত সিস্টেম থিঙ্কিং-এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য ব্যয় জিডিপির ৪.৫% রেখে এসডিজি অর্জনে অগ্রসর, এবং বাংলাদেশিরা চিকিত্সার জন্য থাইল্যান্ডমুখী হচ্ছে। সিঙ্গাপুরে ম্যান্ডেটরি সেভিংস সিস্টেম (মেডিসেভ) এবং শক্তিশালী নেতৃত্বে দক্ষ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, যা বাংলাদেশের সাথে তুলনায় অনেক এগিয়ে, যেখানে আমাদের স্বাস্থ্য বাজেট জিডিপির মাত্র ২.৫% এবং এশিয়ার সর্বনিম্ন। এই তুলনা থেকে স্পষ্ট যে, বাংলাদেশে নেতৃত্ব এবং সিস্টেম থিঙ্কিং-এর উন্নয়ন না হলে ইউএইচসি এবং এসডিজি অর্জন কঠিন।

উপসংহারে বলা যায়, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে নেতৃত্ব এবং সিস্টেম থিঙ্কিং অন্যান্য বিষয়ের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা সামগ্রিক ব্যবস্থার সফলতা নিশ্চিত করে এবং ইউএইচসি, এসডিজি অর্জনে অপরিহার্য। উন্নত দেশ এবং এশিয়ান দেশগুলির সফলতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সংস্কারের জন্য নেতৃত্ব উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং সমন্বিত পরিকল্পনায় জোর দিতে হবে, যাতে এইচআর, লজিস্টিকস ইত্যাদি কার্যকর হয়।